মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩rd অক্টোবর ২০১৯

মাননীয় মেয়র

ইকরামুল হক টিটু

মাননীয় মেয়র জনাব ইকরামুল হক টিটু : জীবন ও কর্ম

‘মানুষ বেঁচে থাকে তাঁর কর্মে, প্রতিষ্ঠান টিকে থাকে তার ধর্মে’ -সাক্ষাৎ করতে আসা এক ভক্ত-পন্ডিতকে উপলক্ষ করে কথাটি বলেছিলেন মহাকবি গেট্যে। বস্তুত তাঁর কথাটির মমার্থ হলো- একজন মানুষ যত বেশি ভালো কাজ করবে, যত বেশি পরিমাণে ভালোর সঙ্গে বসবাস হবে একটি মানবআত্মার; তত বেশি পরিমাণে, তত বেশি দীর্ঘজীবি হবে সেই মানুষটির স্মরণ-আয়োজন। যুগ যুগ ধরে মানুষ মনে রাখবে তাঁকে, শ্রদ্ধাভরে বলবে এবং আলোচনা করবে- যখন, যেখানে সুযোগ মিলবে। মানবজীবনের এই আয়োজন এবং অংশগ্রহণ একজন মানুষকে সফল থেকে সফলতর ও গ্রহণীয় হয়ে উঠতে সাহায্য করে। নানাবিদ কর্মব্যস্ততার মাঝেও সময় দিতে হয় মানুষকে, সঙ্গী হতে হয় মানবতার। ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র জনাব মো. ইকরামুল হক টিটু এমনই একজন মানুষ। যাঁর পরিচয়, যাঁর পরিচিতি একমাত্রই তিনি। কাছে না যাওয়া, মুখোমুখি না বসা এবং কাছ থেকে না দেখা কোনো কারো কাছেই অতৃপ্ত থেকে যাবে তার পরিচিতি তুলে ধরার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। 
জীবনের সফরে তিনি সঙ্গী হয়েছেন জন-মানুষের। বরণ করে নিয়েছেন জনপ্রতিনিধির জীবন এবং রয়েছেন এই মহৎ জীবনে। থাকবেন আমৃত্যুকাল...

(জন্ম)

বঙ্গভূমির নানাবিধ ঐতিহ্য-সংস্কৃতির মাঝে পারিবারিক ঐতিহ্য-বিচার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ‘বাপ কা বেটা, সিপাহি কা ঘোড়া- কুচ না হোয়ে থোরা থোরা’- চিরায়ত এই প্রবাদ বাক্যটির ঐতিহ্য-তৎপর্য যেমন; ইতিহাসগত বাস্তবতাও তেমন। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব-পুরুষদের জীবনী ঘাটলে দেখা যায়, সিংহভাগ পথিকৃৎ-পুরুষরাই কোনো না কোনো ঐতিহ্যমন্ডিত বংশভূত ছিলেন। শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে ঐতিহ্যমন্ডিত ময়মনসিংহ জেলার সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে ১৯৭৬ সালের ০১ আগস্ট জন্ম গ্রহণ করেন মো. ইকরামুল হক টিটু। পিতার নাম : মৃত- আলহাজ্ব ফজলে হক,মাতার নাম : মৃত- মানোয়ারা খাতুন

(শিক্ষজীবন)

‘প্রতিভা যা কিছু স্পর্শ করে, তাই সজীব হয়ে ওঠে’- শিক্ষার্থী ইকরামুলের ব্যাপারে সহপাঠী মহলসহ শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং এলাকার মুরব্বিদের মুখে এমনই ছিলো প্রশংসা। চৌকস টিটু পরিচয়েই তাকে চিনতো সবাই। ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এবং প্রতিবাদী ও নেতৃত্ব-ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন ইকরামুল। ছোটবেলার সেই কঁচি মনেই দাগ কেটেছিলো এলাকার জনগণের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের মহতি চিন্তা। তখন কেউ হয়তো একথা জানতো না যে, ছোট্ট এই ইকরামুলই একদিন হবে এই এলাকার মেয়র কিন্তু একথা সবাই জানতো যে, এই ছেলে একদিন বড় কিছু হবে। দেশ ও দশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে ইকরামুল। পারিবারিক নিয়মে, বংশগত ঐতিহ্য মেনেই প্রিয়তম মা-বাবার কাছেই লেখাপড়া জীবনের হাতেখড়ি লাভ করেন ইকরামুল। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় ময়মনসিংহ জেলা শহরের প্রি-ক্যাডেট হাইস্কুলে ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে। এরপর তিনি পড়াশুনা করেন ময়মনসিংহ জিলা স্কুল এবং মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়। এরপর ভর্তি হন ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। এই কলেজ থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক সনদ লাভ করেন এবং ১৯৯৭ সালে সম্মান-স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন।

(কর্মজীবন)

পড়াশুনা জীবনের প্রতিষ্ঠানিক স্তর সমাপ্ত করার পর পরই শুরু হয় ইকরামুলের কর্মজীবন। ব্যবসাকেন্দ্রিক একের পর এক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা করেন এবং সফলতার সিঁড়ি বেয়ে প্রতিষ্ঠা অর্জন করতে থাকেন একজন ইকরামুল হক টিটু। শামীম এন্টারপ্রাইজ (প্রা.) লিমিটেডের পরিচালক পদ থেকে শুরু হয় তাঁর কর্মজীবন এবং সেই শুরু থেকেই সফল, সফল থেকে সফলতম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী বর্তমান সময়ের মেয়র টিটু। ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ও জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার তিনি। বাংলাদেশ হোটেল এন্ড রিসোর্ট লিমিটেড, সী পার্র বীচ রিসোর্ট এন্ড স্পা লিমিটেড, বেংগল ভোকেশনাল ক্লাব, শামীম এন্টারপ্রাইজ -এর পরিচালক এবং মেসার্স ইকরামুল হক এর সম্মানিত সত্ত্বাধীকারী।

(বর্তমান অবস্থান)

একজন মানুষ একই সাথে একাধিক দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রেও যে কতোটা দায়িত্বনিষ্ঠ, কর্মঠ, গোছানো মানসিকতার ধারক, উদ্যোমী এবং সফল হতে পারনে, মেয়র ইকরামুল হক টিটুকে না দেখলে তা বোঝা কিংবা উপলব্ধি করা অসম্ভব। নিন্মে সংক্ষিপ্ত আকারে মো. ইকরামুল হক টিটুর বর্তমান দায়িত্বভারের একটি তালিকা উপস্থাপন করা হলো। বর্তমানে একাধারে তিনি ময়মনসিংহ সিটি কর্পেোরেশনের সম্মানিত প্রশাসক; দ্য ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সম্মানিত প্রেসিডেন্ট; মিনিসিপ্যলি এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ময়মনসিংহ জোন- এর সম্মানিত সভাপতি; এফ.বি.সি.সি.আই -এর টুরিজম এন্ড হসপিটালিটি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সম্মানিত কো-চেয়ারম্যান; পন্ডিতপাড়া এ্যাথলেটিক্স ক্লাব, ময়মনসিংহ -র সম্মানিত প্রেসিডেন্ট; ময়মনসিংহ সেবা নিকেতন এর সম্মানিক ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িতআবরত রয়েছেন।

(ভ্রমণ)

ভ্রমণ জনাব ইকরামুল হক টিটুর খুবই পছন্দের একটি বিষয়। এককথায় ভ্রমণপিয়াসু একজন মানুষ তিনি। ব্যবসায়িক, অফিসিয়াল বিভিন্ন সফরের পাশাপাশি অবকাশ যাপণের টানেও ঘুরে বেড়িয়েছেন বিশ্বময়। যুক্তরাস্ট্র, যুক্তরাজ্য, জামার্নী, নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, ইতালি, স্পেন, পতুর্গাল, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, সৌদিআরব, চীন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এবং ভারতসহ ভ্রমণ করেছেন আরো বেশ কিছু উন্নয়নশীল দেশ। ঘুরে বেড়িয়েছেন এসব দেশের প্রায় সব বিখ্যাত এবং দশর্নীয় সব স্থান। ভ্রমণ নামের তরীতে আরোহণ করে অর্জন করেছেন জ্ঞান। জাগতিক অমিয় জ্ঞান।

(স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্র অবদান)

একজন মানুষ, একটি মানব সত্তার মৌলিক বিভিন্ন চাহিদার মাঝে স্বাস্থ্যগত সুস্থতা বা চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করার বিষয়টি অন্যতম। সুস্থ দেহ, সুস্থ মন সকল কাজ বা শক্তির মূল উৎস হিসেবে বিবেচিত। শরীর-মন ভালো থাকলে, সভাবতই বিভিন্ন কাজে অগ্রগতি তাড়াতাড়ি অর্জিত হয়। কিন্তু আফসোসের বিষয় হচ্ছে, আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে অবস্থান করেন বলে, সঠিকভাবে এবং নিয়মিতভাবে স্বাস্থসেবা গ্রহণ করতে পারেন না। বাংলাদেশের এই উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণ মানুষগুলোকে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করার জন্য সরকারী বিভিন্ন উদ্যোগ আয়োজনের পাশাপাশি সরকারি এবং বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে এগিয়ে এসেছেন ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র জনাব ইকরামুল হক টিটু। ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানিকভাবে অসংখ্য-অগণিত মানুষকে সহযোগিতা করেছেন চিকিৎসাকেন্দ্রিক সেবা-সহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে। দরিদ্র-দুস্থ ও গরীর রোগীদেরকে স্বল্প ব্যয়ে এবং ক্ষেত্র বিশেষ একেবারে ফ্রি চিকিৎসা প্রদানের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে এবং কখনো ব্যক্তিগত উদোগ্যে অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্পের মাধ্যমে গ্রাম্য মানুষদের স্বাস্থসেবা করেছেন তিনি। ময়মনসিংহের জনমানুষের চিকিৎসাকেন্দ্রিক সহযোগিতার কথা চিন্তা করেই শত ব্যস্ততা আর দায়িত্বভারের মাঝেও যুক্ত রয়েছেন ময়মনসিংহ সেবা নিকেতনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সাথে।

(কন্যাদায়গ্রস্থ পিতাদের সাহায কেন্দ্রিক অবদান)

একটি সমীক্ষায় দেখানো হয়েছে, বাংলাদেশের শতকরা প্রায় ৬৯জন পিতা সঠিক সময়ে, উপযুক্তভাবে তার কন্যা সন্তানটির বিবাহ দিতে পারেন না। বিভিন্ন কারণের মাঝে অন্যতম একটি কারণ দারিদ্র। দরিদ্র বাবারা টাকার অভাবে নিজের কন্যাকে সামাজিকভাবে একজন সুপাত্রের হাতে তুলে দিতে পারেন না। বাংলাদেশের গ্রাম অঞ্চলের পাশাপাশি শহুরে এলাকাগুলোতেও দিন দিন মহামারি আকার ধারণ করছে সামাজিক এই ব্যাধি। ভয়াবহ এই সামাজিক ব্যাধি নিরসনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন জনাব ইকরামুল হক টিটু। ময়মনসিংহ পৌরএলাকার কন্যাদায়গ্রস্থ পিতাদের সাহায্য-সহযোগিতা করছেন তিনি উন্মুক্ত মনে। কেবল ময়মনসিংহ এলাকায় নয়, যেখানেই এমন সমস্যাগ্রস্থ মানুষের সন্ধান পেয়েছেন, ছুটে গিয়েছেন এবং হাত বাড়িয়েছেন দায় মোচনে। এ বিষয়ে জনাব ইকরামুল হক টিটু বলেন, ‘নারী জাতি মায়ের জাতি। সঠিক সময়ে একজন মেয়ের বিয়ে না হওয়াটা পিতা ও কন্যা উভয়ের জন্য লজ্জাকর এবং বিভ্রান্তিকর। এই বিষয়টি আমাকে বেশ শিহরিত করে। এই ব্যাপারে আমি একটু বেশি অগ্রগামী থাকতে চাই কারণ নারী জাতিকে সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেক পুরুষের অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব।’

(যৌতুকপ্রথা ও নারী নির্যাতন বন্ধ করণমূলক অবদান)

যৌতুকপ্রথা ও নারী নির্যাতন- বর্তমান বাংলাদেশের অন্যতম সামজিক সমস্যা। শত শত এনজিও এবং সমাজসেবী প্রতিষ্ঠানের নানামুখি কর্মকা-ের পরও দিন দিন বেড়েই চলেছে এই সমস্যা। ইকরামুল হক সমাজের এই অন্যতম ব্যাধিকে নিরসন করার লক্ষে বাস্তবমুখি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর মাঝে বিভিন্ন অঞ্চলে যৌতুকবিহীন বিয়ের ব্যবস্থাকরণ, নববিবাহিত স্বামীদের নিজস্ব উদ্যোগে সাবলম্বি হওয়ার জন্য ঋণ সুবিধা প্রদানমূলক উদ্যোগগুলো অন্যতম। এছাড়া বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে নারী নির্যাতন ও যৌতুকবিরোধী সভা-সেমিনার-মানববন্ধন আয়োজনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে জনাব ইকরামুল হক টিটু এবং তাঁর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ময়মনসিংহ পৌরসভা।

(বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিমার্ণ ও সহযোগিতা প্রদানকেন্দ্রিক অবদান)

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। বিখ্যাত মনীষীরা বলেছেন, যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত হবে, সে জাতি তত বেশি উন্নত হবে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণের পদ্ধতি হলো- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করা। এক্ষেত্রে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। শিক্ষা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বের কথা অনুধাবন করে এ কথা নির্দিধায় বলা যায় যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যত বেশি হবে, শিক্ষা তত বেশি বিস্তার লাভ করবে এবং সহজলভ্য হবে। সুতরাং অধিক পরিমাণে এবং মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা শিক্ষার হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্যতম সহায়ক শক্তি। শিক্ষার সহলভ্যতা এবং অধিকতার কথা বিবেচনায় রেখে জনাব ইকরামুল হক টিটু ময়মনসিংহ পৌরএলাকার প্রায় সব স্কুল, কলেজ, মাদরাসা এবং বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমগুলোকে অগ্রাধিকার প্রদান করেছেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহে সর্বপ্রথম তাঁরই উদ্যোগে মেয়মনসিংহ পৌরসভার পক্ষ থেকে ২০১২ সালের এস. এস. সি. এবং এইচ. এস. সি. পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। ধারাবাহিকভাবে ২০১৩ সালে আরো বেশি পরিমাণ শিক্ষার্থীকে ঈস্খদান করা হয়েছে একই সম্মাননা এবং ভবিষ্যতেও জারি থাকবে এই কার্যক্রম।

(সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সুস্থ ধারার সংস্কৃতিতে সহযোগিতা প্রদানকেন্দ্রিক অবদান)

সংস্কৃতি- একটি জাতির রুচিশীল পরিচয়। যে সমাজে সংস্কৃতিমনা মানুষের বসবাস নেই, সে সমাজকে অরণ্যের সঙ্গে তুলনা করছেন মনীষীরা। মহাকবি শেখ সাদির ভাষায়, ‘যে জাতির কোনো সংস্কৃতি নেই, সে জাতি কখনো সভ্য জাতি হতে পারে না।’ এককথায়, সংস্কৃতি হলো একটি জাতি, একজন মানুষের ব্যাক্তিত্বশীলতার বহিঃপ্রকাশ। আমরা বাঙালি, আমাদেরও একটি সংস্কৃতি রয়েছে, রয়েছে সাংস্কৃতিক পরিচয়। কিন্তু আফসোসের বিষয় হচ্ছে, আমরা বাঙালি জাতি ধীরে ধীরে নিজস্ব সাংস্কৃতিক সত্তা হারিয়ে দিন দিন বিজাতীয় সংস্কৃতির পাগল বনে যাচ্ছি। অসুস্থ ধারার সংস্কৃতির সয়লাবে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের সুস্থ ধারার সংস্কৃতি এবং হারিয়ে যাচ্ছি আমরা। সংস্কৃতির এই যুগ সন্ধিক্ষণে সুস্থ ধারার সংস্কৃতি এবং সাংস্কৃতিক বিভিন্ন আয়োজন-উদ্যোগকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন জনাব ইকরামুল। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা প্রদান করা ছাড়াও ময়মনসিংহ পৌরসভার উদ্যোগে গ্রহণ করছেন নানামুখি সাংস্কৃতিক কর্মকা-।

(শীতবস্ত্র বিতরণমূলক অবদান)

ষড়ঋৃতুর দেশ আমাদের বাংলাদেশ। পৃথিবীর আর কোনো দেশে এমন ঋৃতু বৈচিত্র নেই। নেই এমন ঋৃতুকালীন প্রাকৃতিক পরিবেশগত সৌন্দর্য। শীত বাংলাদেশের অন্যতম একটি ঋৃতু। আর সমুদ্রতীরবর্তী এবং বনসমৃদ্ধ দেশ হওয়াতে অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের এখানে শীতের মাত্রা একটু বেশি থাকে। বিশেষত পৌষ-মাঘ মাসে হাড় কাঁপানো শীত নামে। এই শীত নিয়ে বাংলা ভাষায় একটি প্রবাদও প্রচলিত রয়েছে। ‘মাঘের শীতে বাঘ পালায়।’ শীতকালে স্বাভাবিক কারণেই অতিরিক্ত কাপড় বা শীতবস্ত্রের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের দেশের হতদরিদ্র মানুষগুলোর পক্ষে খাদ্য-বস্ত্র ও বাসস্থানের মৌলিক চাহিদা পূরণ করার পর শীতকালীন এই অতিরিক্ত চাহিদা পূরণ করাটা বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। রাস্তা-ঘাট ও ফুটপাতে অবস্থানকারীদের সামান্য ছেঁড়া-কাঁথা জড়িয়ে ঘুমিয়ে থাকতে দেখো যায়। এসব হতদরিদ্র মানুষগুলির কথা চিন্তা করে প্রতি বছরই ময়মনংিহ পৌরএলাকারসহ বাংলাদেশের শীতগ্রস্থ এলাকাগুলিতে শীতবস্ত্র প্রদান করেন জনাব ইকরামুল হক টিটু এবং এই মহতি উদ্যোগে সঙ্গী হয় তাঁর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই।

(প্রাকৃতিক দূযোর্গকালীন সাহায্য-সহযোগিতা প্রদানকেন্দ্রিক অবদান)

আমরা বাঙালি। প্রাকৃতিক দূর্যোগ আর বন্যা-বাদল আমাদের নিত্য সঙ্গী। বৈশাখের কাল বৈশাখী ঝড় থেকে শুরু করে বড় আকারের বন্যা-জলোচ্ছ্বাস, এমনকি ভয়ংকরি আইলা পর্যন্ত দেখেছি আমরা। এসব ঝড়-বন্যা যেমন আমাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন ধারাকে ব্যহত করে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্থ করে মানুষের জীবনকে এবং ভেঙ্গে দেয় আমাদের অর্থনৈতিক অবকাঠোমোকে। নানান সময় আগত এসব বন্যা-জলোচ্ছ্বাসে হাজার হাজার মানুষ ঘর হারা হয়ে পরে। শেষ সম্বল হারিয়ে নিস্ব হয়ে যায় অনেকে। বন্যা বা জলোচ্ছ্বাস কিংবা প্রাকৃতিক বিভিন্ন দূর্যোগের সময় মানুষ আক্রান্ত হয় বিভিন্ন রোগে। অস্বাভাবিক জীবন যাপনের ফলে ভয়ংকর সব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রাকৃতিক দূযোগকালীন সাহায্য-সহযোগিতার ক্ষেত্রে সব সময়ই এগিয়ে রয়েছেন ইকরামুল হক টিটু। অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে আসছে ময়মনসিংহ পৌরসভা।

(কুসংস্কার-কুপ্রথা দমনকেন্দ্রিক অবদান)

নানা রকম কুপ্রথা ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন আমাদের এই দেশ। বিশেষত বিশেষভাবে গ্রাম্য এলাকাগুলো এসব সামাজিক ব্যাধিতে বেশি আক্রান্ত। তবে আশার কথা হলো, অতীতের তুলনায় এ ব্যাপারে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান বেশ ভালো। শিক্ষিত মানুষের হার দিন দিন যত বেশি হচ্ছে, সমাজ থেকে কুসংস্কার ও কুপ্রথা বিদায় নিচ্ছে। বাংলাদেশের এই বিশেষ অর্জনটির সঙ্গে সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি যে কয়জন ব্যক্তির নাম জড়িত রয়েছে জনাব ইকরামুল হক টিটুর নামও সে তালিকাতে সম্মানজনক স্থান লাভ করবে। বিশেষ বিশেষ দিবস উপলক্ষে নানামুখি কুসংস্কার বিরোধী সভা-সেমিনার এবং অনুষ্ঠান আয়োজন করা মেয়র টিটুর একটি অন্যতম বিশেষত্ব বলেই প্রকাশ করেছেন তাঁর সহকর্মী ও এলাকাবাসী জনগণ।

(মসজিদ-মাদরাসা ও এতিমাখানা প্রতিষ্ঠাসহ ধর্মীয় ক্ষেত্রে অবদান)

ধর্মীয় কোনো খাতে অর্থ ব্যয় করাকে অনেকেই মানবসেবা বলে মনে করেন না। তাদের ধারনা, মানবসেবার এই সীমানাটি কেবর অসহায়-গরীব মানুষের সহযোগিতা প্রদান করার মাঝেই সীমাবদ্ধ। বস্তুত, ধর্মীয় বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করাটা আরো বেশি কল্যাণকর এবং যথার্থ। বিভিন্ন স্থানে মসজিদ-মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান করা জনাব মো. ইকরামুল হক টিটুর নিজস্ব একটি মানসিকতা এবং এই মানসিকতা বহিঃপ্রকাশ প্রকাশ্যের তুলনায় গোপনেই তিনি বেশি করেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহ পৌরএলাকাসহ অন্যান্য বিভিন্ন এলাকার এমন কোনো মসজিদ-মাদরাসা নেই যেখান পর্যন্ত মেয়র টিটুর অনুদানের হাত পৌছায়নি। কেবল ইসলাম ধর্ম এবং ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানেই নয় মেয়র টিটু সাহায্য-সহযোগিতা এবং অনুদানের হাত সকল ধর্মের প্রতি বিস্তৃত। সকল ধর্মের মানুষই সমানভাবে আদৃত হন তাঁর কাছে। যার ফলশ্রুতিতে একজন মুসলমান যেমন একান্তে ভালোবাসেন প্রাণপ্রিয় এই মেয়রকে, তেমনি ভালোবাসেন একজন হিন্দু, খ্রীস্টান এবং বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীও।


Share with :

Facebook Facebook